মহেশ দরিদ্র বর্গাচাষি গফুরের অতি আদরের একমাত্র ষাঁড়। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে ওকে ঠিকমতো খড়-বিচুলি খেতে দিতে পারে না। জমিদারের কাছে সামান্য খড় ধার চেয়েও পায় না। নিজে না খেয়ে থাকলেও গফুরের দুঃখ নেই। কিন্তু মহেশকে খাবার দিতে না পেরে তার বুক ফেটে যায়। তাই সে মহেশের গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে- মহেশ, তুই তো জানিস আমি তোকে কত ভালোবাসি। মহেশ প্রত্যুত্তরে গলা বাড়িয়ে আরামে চোখ বুজে থাকে।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে একটু দেরি করে আসত কোন পাখি?
(জ্ঞানমূলক)
লেখক কুকুরটিকে অন্ধকার পথে বাড়ি পর্যন্ত পৌছে দেওয়ার জন্য বললেন। তার লেজ নাড়তে দেখে লেখক বুঝলেন সে রাজি আছে। তিনি কুকুরটিকে সাথে নিয়ে বাড়ির সামনে এলেন। গেট খুলে ওই কুকুরকে ভেতরে ডাকলেন। কিন্তু কুকুরটি বাইরে দাঁড়িয়ে লেজ নাড়তে লাগল। ভেতরে ঢুকল না কারণ কুকুরটি ভয় পেয়েছিল। সে ভেবেছিল ভেতরে ঢুকলে হয়তো তাকে প্রহার করা হবে।
উদ্দীপকে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক কুকুরের প্রতি যে স্নেহপূর্ণ আচরণ করেছেন সেই দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
পশু-পাখির সাথে মানুষের স্বাভাবিক স্নেহপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। অনেক মানুষ পশু-পাখিকে সন্তানস্নেহে লালন-পালন করে। এই পশু-পাখি মানুষের সুখ-দুঃখের সাথিও হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকের মহেশ হলো দরিদ্র বর্গাচাষি গফুরের অতি আদরের একমাত্র ষাঁড়। দারিদ্র্যের কারণে মহেশকে ঠিকমতো খাবার দিতে পারে না বলে কষ্টে তার বুক ফেটে যায়। সে মহেশের গলা জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে, মহেশ তার ছেলে, তাকে পেটপুরে খেতে দিতে না পারলেও তাকে সে অনেক ভালোবাসে। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের অতিথি পথের একটি কুকুর, বেড়াতে যাওয়ার সঙ্গী। লেখক চাকরকে বলেন, কুকুরটি যদি গেটের ভেতরে আসে তবে তাঁকে যেন খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু অতিথি গেটের ভেতর না ঢুকে চলে যায়। পরদিন তিনি অতিথিকে গেটের বাইরে দেখে জানতে চাইলেন, গতকাল তার নিমন্ত্রণে সে এলো না কেন। আজ যেন সে খেয়ে যায়, না খেয়ে যেন যায় না। এছাড়াও দেওঘর থেকে ফেরার সময় লেখকের খুব কষ্ট হয় তাকে ছেড়ে আসতে। এভাবে উদ্দীপকের মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের কুকুরের প্রতি স্নেহপূর্ণ আচরণের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
মানুষের সাথে মানুষের যেমন স্নেহ-মমতার সম্পর্ক বিদ্যমান তেমনই প্রাণীর সাথেও মানুষের মমতার সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। পশু-পাখিও মানুষের ভালোবাসা বুঝতে পেরে তার প্রতিদান দেয়।
উদ্দীপকের গফুরের পোষা প্রাণী একটি ষাঁড়- নাম মহেশ। সে দারিদ্র্যের কারণে মহেশকে ঠিকমতো খড়-বিচুলি দিতে পারে না। খাবারের জন্য মহেশের দুঃখের সীমা নেই দেখে সন্তানতুল্য মহেশের গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদে গফুর। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে কয়েক দিনের জন্য বেড়াতে আসা লেখকের সাথে একটি কুকুরের সখ্য গড়ে ওঠে। লেখক তাকে বাড়িতে আশ্রয় দেয়। তাকে রেখে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য লেখকের মনে আগ্রহ ছিল না।
উদ্দীপকের গফুরের সাথে লেখকের প্রাণীর প্রতি সহানুভূতির দিক দিয়ে মিল লক্ষ করা যায়। কিন্তু গফুর দারিদ্র্যের কারণে তার পোষা প্রাণী মহেশকে ঠিকমতো খাবার দিতে পারছে না। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক বেড়াতে এসে একটি কুকুরের সাথে স্নেহের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি চাকরদের দিয়ে তাকে খাবার খেতে দেন। প্রাণীর প্রতি গফুর ও আলোচ্য গল্পের লেখকের মমতা প্রমাণ করে চেতনাগতভাবে তারা এক। কিন্তু পারিবারিক, আর্থিক ও সামাজিক দিক দিয়ে উদ্দীপক ও গল্পের প্রেক্ষাপট ভিন্ন।
লেখকের অতিথি কুকুরটিকে ছেড়ে যেতে খারাপ লাগার কারণে লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক পথে বেড়াতে বের হতেন একা একা। একদিন বাড়ি ফিরতে তার সন্ধ্যা হয়ে যায়, পথের একটি কুকুর সঙ্গী হয়। তারপর থেকে প্রতিদিন কুকুরটি বাড়ির গেটের সামনে লেখকের জন্য অপেক্ষা করে। কুকুরটির এরূপ আচরণে লেখকের মনে কুকুরটির জন্য অকৃত্রিম মমত্ববোধ জেগে ওঠে। তাই দেওঘর থেকে যখন বিদায় নেওয়ার দিন এসে পড়ে তখন কুকুরটিকে ছেড়ে যেতে খারাপ লাগায় লেখক নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন।